নতুন বছর মানেই রঙের উৎসব, আলোর উৎসব, আনন্দের উৎসব। আর সর্বোপরি বাঙালিয়ানা উদ্যাপনের উৎসব। পয়লা বৈশাখে ছেলেরা পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া, কুর্তা, টি-শার্ট, ধুতি, ব্যাপারি শার্ট বা কুর্তা পরেন।
ফ্যাশন হাউস ওটুর প্রধান নির্বাহী আসিফ ইবনে মান্নান জানালেন, এবারও পোশাকে লাল-সাদা রং প্রাধান্য পাবে। গোল গলার পাশাপাশি হাইনেক বা বেন্ড কলার, হাতার ক্ষেত্রে হাফ ও ফুল হাতার পাশাপাশি থ্রি কোয়ার্টার হাতা, কাটিংয়ের ক্ষেত্রে বডি ফিটিং, আঙরাখা কাট, জমিদারি কাট দেখা যাবে। অনুষঙ্গ হিসেবে বাহারি উত্তরীয় ও হালকা গয়নার ব্যবহার থাকবে। পাঞ্জাবির সঙ্গে জিনেসর প্যান্ট কমই দেখা যাবে। বরং চুড়িদার বা ধুতি কাট পায়জামাই বেশি পরবেন তরুণেরা।
ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান জানান, বৈশাখের সঙ্গে লাল-সাদা রঙের রয়েছে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। তাই পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে এই দুটি রংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি উৎসবধর্মী অনেক রং ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন—অফ হোয়াইট, সবুজ, কালো, হলুদ, বেগুনি আর নীল। ডিজাইন যা-ই হোক, পোশাক হতে হবে আরামদায়ক।
বাজার ঘুরে দেখা গেল, আবহমান গ্রামবাংলার হাতপাখার বর্ণিল নকশা, লোকজ মোটিফসহ নানা ফ্লোরাল ও জ্যামিতিক মোটিফের ব্যবহার করা হয়েছে ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শার্ট ও পাঞ্জাবিতে। সুতি, অ্যান্ডি সুতি, ভয়েল, জয় সিল্কসহ বিভিন্ন কাপড়ে স্ক্রিন প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি করে ফতুয়া করা হয়েছে।
উজ্জ্বল রং অথচ কাজটা খুব সাধারণ, এমন পাঞ্জাবিই তরুণদের পছন্দ। আর আরামদায়ক তো হতেই হবে। তাই সুতি কাপড়ই তাঁদের প্রথম পছন্দ। এ ছাড়া এবার অরবিন্দ কাপড়ও বেশ ব্যবহূত হচ্ছে। খাটো পাঞ্জাবির প্রতি তরুণদের ঝোঁক বেশি। তা আবার বেশ ফিটিং হতে হবে। তবে অনেকে গরমের কারণে ঢিলেঢালা পাঞ্জাবিও পরবেন। পাঞ্জাবির ঝুল যেমনই হোক, কলারটা এবার বেশ বাহারি হবে। পাঞ্জাবির সামনের অংশ জুড়ে বড় কারুকাজও চোখে পড়বে। সহজে ধুতি পরার জন্য অনেক ফ্যাশন হাউস ধুতি কাট পায়জামা এনেছে। এসবের কোমরে ইলাস্টিক দেওয়া, যা পরতে সহজ।
ফ্যাশন হাউস রঙ-এর স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা জানালেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পোশাকে প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সেই সময়কে।

ফেরদৌস ফয়সাল
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ০৫, ২০১২