তাহসিন কিছুদিন পরপরই অদল-বদল। ফ্যাশনের মজাটাই তো এখানে। একঘেয়েমি চলে আসার আগেই নিজেকে সাজানো যায় নতুন ডিজাইনে। খাটো ঝুলের কামিজ, ঘের দেওয়া সালোয়ার কিছুদিন আগেও চলছিল বেশ। তবে এখন যেন কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফ্যাশন মানেই পরিবর্তন। এবার সেই পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে কামিজের ঝুলের ক্ষেত্রে। মৌসুম বদলের সঙ্গে বদল হলো যেন ফ্যাশনেরও। ঝুল তো বটেই, কামিজের কাটছাঁটেও দেখা যাবে কিছুটা নতুনত্ব।

ফিরে এল লম্বা কামিজ
কামিজের ক্ষেত্রে একটু লম্বা পরার চলটা আবার ফিরে আসছে। কিছুদিন আগেও অনেকটা ফতুয়ার ঢঙেই কামিজ পরতেন অনেকে। তবে এখন কামিজের দৈর্ঘ্যটা বেড়ে হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা যাচ্ছে। নতুন লুক আনতে চাইলে হাঁটুর তিন-চার ইঞ্চি নিচ পর্যন্ত কামিজটি বানাতে পারেন। দর্জি বুটিকের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সাশা মানসুর বলেন, ‘বিদেশি ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে পোশাকের ঝুলটা একটু লম্বা। তার প্রভাবে আমাদের দেশেও এই ট্রেন্ডটি আসছে। আমাদের দেশে পোশাকের ক্ষেত্রে সবার আগে চোখে পড়ে পোশাকের দৈর্ঘ্য। অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তনটা দেখা যায় কম।’
কামিজের ক্ষেত্রে এ লাইন কাটটি জনপ্রিয় হবে বলে জানান তিনি। গরমে আঁটসাট পোশাক কেউ পরতে চাইবে না। বরং একটু ঢিলেঢালা হলেই ভালো লাগবে। হাতা হতে পারে থ্রি-কোয়ার্টার বা এর চেয়েও একটু লম্বা। রোদ থেকে কিছুটা আরাম পাওয়া যাবে তাতে। কামিজের দুই পাশের কাটা কোমর থেকে একটু নিচে নামতে পারে। কামিজের ঘের বেড়ে যাবে।

দর্জিবাড়ির কথা
কামিজের হাল ফ্যাশনের খোঁজ নিতে ঢুঁ দেওয়া হলো ঢাকার দর্জিবাড়িগুলোতে। গুলশানের পিংক সিটিতে অবস্থিত দর্জির দোকান হেনা। এখানে কর্মরত আমিনুল ইসলাম বলেন ‘এখন অনেকেই লম্বা কামিজ বানাতে চাচ্ছেন। তবে আপনার উচ্চতা অনুযায়ী কামিজের দৈর্ঘ্য ঠিক করুন।’ একই কথা জানালেন, গুলশানের আজিজ টেইলার্সের মো. আলমগীর। গাউছিয়ায় অবস্থিত অনিকা টেইলার্সের মান্নান জানান, লম্বা কামিজ পরার ফ্যাশন চালু হয়ে গেছে এবং এটি আরও বেশি দেখা যাবে।

সালোয়ারেও বদল
কামিজে পরিবর্তন আসবে কিন্তু সালোয়ারে আসবে না, তা কি হয়। চুড়িদার, ঘের কম দেওয়া সালোয়ার, ডিভাইডার ও টাইটস প্রাধান্য পাবে বলে জানান সাশা মানসুর। এর সঙ্গে বেড়ে যাবে মহুরির মাপও। যেটা আগে ১২ ছিল সেটা এখন ১৫ পর্যন্ত যেতে পারে।

মোটা বর্ডার
কামিজের নিচে, হাতার শেষে চওড়া বর্ডার বসানোর চাহিদার কথা বলেন সাশা মানসুর। সাটিন বা কাতানের পাড় লাগাতে পারেন। কখনো কামিজের রঙে মিলিয়ে আবার কখনো বিপরীত রঙের পাড় দিতে পারেন।
গরম থেকে বাঁচতে কাপড় হিসেবে বেছে নিতে পারেন সুতি, ভয়েল, অ্যান্ডি সিল্ক।

রয়া মুনতাসীর
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ০১, ২০১১