হাড়গোড়, মাটি, সুতা, কাঠ, পুঁতি, নানা ধাতুর চাকতি—গয়না তৈরির উপাদান এগুলোই। দাম কম, দেখতে বড় আর নজরকাড়া। পোশাকের সঙ্গে রং মেলানোর বালাই নেই, যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই পরা যায় এসব গয়না। কিশোরী আর তরুণীদের কাছে এর কদর পেতে তাই দেরি হয়নি। অনেকে জাঙ্ক জুয়েলারি বলেন এ ধরনের গয়নাকে।
এই বয়সের মেয়েদের সোনা, দামি পাথর ইত্যাদির গয়নায় তেমন মানায় না। আবার জমকালো অনুষ্ঠানে নিজেকে জমকালো করে উপস্থাপন করার ঝোঁকটা বেশি থাকে এই বয়সেই। তাই পোশাক আর বয়সের সঙ্গে মানিয়ে বেছে নিতে হয় গয়না। এমনটাই বলেন ফ্যাশন ডিজাইনার মাহিন খান।
তিনি মনে করেন, হালফ্যাশনের পোশাক টপস, ফতুয়া, জিনস, ক্যাপ্রি, টিউনিক, শার্ট কিংবা স্কার্ট এই বয়সী মেয়েদের পছন্দের তালিকায় থাকে। এসব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে বিভিন্ন আকার, মোটিফ আর বিভিন্ন উপাদানের তৈরি গয়না পরা যেতে পারে। বড় গয়নার চলটা আবার এসেছে। আর জাঙ্ক জুয়েলারির প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো বড় আর নজরকাড়া আকার।
ইচ্ছামতো পরা যায় এ ধরনের গয়না। অর্থাৎ ফ্যাশনের নানা নিয়মকানুনের বিধিনিষেধ নেই। এই ব্যাপারটাই বোধহয় জাঙ্ক জুয়েলারির বড় আকর্ষণ। তবে ফ্যাশন ডিজাইনারদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু পরামর্শও দেওয়া হলো।
গয়নার দোকান মাদুলীর পরিচালক মোহাম্মদ তমিজউদ্দিন বলেন, গলায় কম ঝুলের মালা পরলে মালাটা ভারী আর মোটা হলেই ভালো। আর বড় মালার ক্ষেত্রে মালাটা ছেড়ে কিংবা পেঁচিয়ে কয়েক লহরে পরা যেতে পারে। গলায় ভারী কোনো গয়না পরলে কানে ছোট দুল পরুন। পায়ে পরার জন্য খাড়ুও এখন বেশ জনপ্রিয়। অ্যান্টিক সোনালি রঙের চলই এখন বেশি।
ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানার ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, এই বয়সে গয়না পরলে যেকোনো একটা দিকের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে হয়। গলায় অনেকে আকারে বড় ত্রিকোণ, চৌকোণ আবার গোলাকার ঝুলনি দেওয়া কোনো লকেট পরতে পারেন। লকেটটা মোটা কোনো চেইন বা মালার সঙ্গে লাগানো থাকতে পারে। কিংবা গলার সঙ্গে লাগোয়া কোনো নেকলেসও দিব্যি মানিয়ে যায়। হাতের গড়ন বুঝে পরা যেতে পারে ভারী ও মোটা বালা। হাতের বালা, ব্যাঙ্গল, চুড়ি কিংবা ব্রেসলেট যা-ই পরা হোক না কেন, তা বেশ মোটা আকারের হচ্ছে। ফ্যাশন হাউস দেশালের ডিজাইনার ইসরাত জাহান বলেন, ফ্যাশন তো ঘুরে ঘুরেই আসে। একসময়ের ভারী গয়নার চলটা বর্তমানের হাল ফ্যাশন হয়ে এসেছে। আর কিশোরীদের রুচি, ব্যক্তিত্ব আর পোশাকের সঙ্গে এই ভারী গয়না অনায়াসেই মানিয়ে যায়। তবে তিনি আরও বলেন, এক হাতে কয়েকটা বালা পরলে অন্য হাতটা ফাঁকা রাখলেই ভালো দেখাবে। আবার গলায় ভারী কিছু পরলে কানে হালকা দুল কিংবা দুল না পরলেও চলে।

সাজসজ্জাটা যেমন
এ ধরনের গয়না পরলে মেকআপের তেমন প্রয়োজন নেই, গয়নাটাই নজর কাড়ে। ফলে মুখের সাজ হালকা হলেই ভালো বলে মনে করেন পারসোনার রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। আবার বন্ধুদের কোনো পার্টিতে একটু মজার ভঙ্গিতেও সাজা যেতে পারে। যেমন গাঢ় নীল, সবুজ, গোলাপি ইত্যাদি রঙের আইশ্যাডো দেওয়া যেতে পারে চোখে। হলুদ, লাল, কালো, সবুজ এসব রঙের নেইলপলিশও ব্যবহার করা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে গয়না কম পরাই ভালো। গলায় বড় কোনো মালা অথবা হাতে মোটা একটি ব্যাঙ্গল আর ঠোঁটে থাকবে হালকা রঙের লিপগ্লস।

কোথায় পাবেন
মাদুলী, দেশাল, বিবিয়ানা, পিরান, আড়ং আর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে মিলবে এই গয়নাগুলো। চাঁদনি চকেও পাবেন বেশ বড় সম্ভার।

শারমিন নাহার
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ০৯, ২০১১