লালপেড়ে ঢাকাই শাড়ি। কপালে লাল টিপ। হাতভরা কাচের লাল চুড়ি। বাঙালি নারীর বৈশাখী সাজ বলতেই চোখে ভেসে ওঠে এমন রূপ। বাংলা বর্ষের প্রথম দিনে এমন সাজ দেখতেই অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু শাড়িতে যাঁরা অভ্যস্ত নন, তাঁরা? নিশ্চয়ই ঘরে বসে থাকবেন না। তাঁরাও বাইরে বের হবেন। পরবেন আরামদায়ক কিন্তু বৈশাখী নকশার কোনো দেশীয় পোশাক। হতে পারে তা হাল সময়ের কুর্তা। যার ঝুল ফতুয়ার চেয়ে একটু লম্বা। কাটছাঁটেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় এ পোশাককে দেশীয় মোটিফে বর্ণিল রঙের ছোঁয়া দিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে ফ্যাশন হাউসগুলো।
‘বৈশাখের রোদে সারা দিন ঘোরাঘুরির জন্য এটি উপযুক্ত পোশাক। এ ছাড়া কুর্তার মতো ফ্রক, ফতুয়াও পরতে পারেন।’ বলেন ফ্যাশন হাউস দেশালের অন্যতম স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ইশরাত জাহান। তাঁর মতে, নিচের দিকে কুঁচি ব্যবহার চলছে এসব পোশাকে। গলার নকশায় পুরোপুরি গোল, হাইনেক, ভি-গলা, বন্ধ গলা, পেছনে বোতাম থাকছে। অ্যাপ্লিক, হাতের কাজ, স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবহার রয়েছে। রানি রং, হলুদ, লালসহ উজ্জ্বল রং দিয়েই তৈরি হয়েছে এসব পোশাক। সঙ্গে সাদা রঙের ছোঁয়া তো থাকছেই। এ ছাড়া পাখি, ফুল ও নানা লোকশিল্পের ফিউশন থাকবে এবারের বৈশাখী কুর্তায়। আর এসব কুর্তার সঙ্গে চুড়িদার সালোয়ার ও জিন্সই বেশি মানানসই হবে। তাতেও মন ভরছে না? নিজেকে আরেকটু ভিন্নভাবে সাজাতে চান? তাহলে টাইডাই, গামছার স্কার্ফ মিলিয়ে পরতে পারেন কুর্তার সঙ্গে। ভিড়ের মধ্যে সহজেই আলাদা করা যাবে আপনাকে।
অনেক হাঁটতে হবে সেদিন। তাই ফ্লাট দুই ফিতার স্যান্ডেল পরাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। গলায় ভারী গয়না না পরাই ভালো। কাঠের বা মাটির গয়না উৎসবের আমেজটা আরও জাঁকিয়ে তুলবে। তবে যা-ই পরুন না কেন, তা যেন আরামদায়ক হয়। বলেন ইশরাত জাহান।
‘লাল-সাদার পাশাপাশি এখন নানা উজ্জ্বল রং ব্যবহার হচ্ছে কুর্তায়।’ বলেন ফ্যাশন হাউস লা রিভের প্রধান ডিজাইনার মন্নুজান নার্গিস। লালের বিভিন্ন শেড, কমলা, হলুদ, সবুজ রঙের কুর্তা পরতে পারেন। উজ্জ্বল রঙে উৎসবের আমেজ ফুটে উঠবে। এ ছাড়া কুর্তার পাশাপাশি কম বয়সী মেয়েরা টিউনিক, ফতুয়া পরতে পারে। এসব পোশাকে এমব্রয়ডারির কাজের প্রাধান্য রয়েছে। কাটছাঁটেও ভিন্নতা থাকছে এবারের বৈশাখী কুর্তায়।
অঞ্জন’সের স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ জানান, কুর্তার হাতায়ও থাকছে রকমারি নকশা। থ্রি-কোয়ার্টার, স্লিভলেস ছাড়াও ঘটি হাতা, কুঁচি দেওয়া হাতা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আজকাল।
পোশাক তো হলো। এখন দিতে হবে মানানসই সাজ। এর উপায় বলে দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা কামাল। তিনি বলেন, কুর্তার সঙ্গে সাজ হবে খুবই হালকা। আর দিনের বেলা বের হতে হয়, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। পোশাকটা যেহেতু পুরোদস্তুর ঐতিহ্যবাহী নয়, তাই সাজে তার ছোঁয়া দিতে হবে। স্পঞ্জ পানিতে ভিজিয়ে হালকা করে কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন মুখে ও গলায়। এরপর চোখের ওপরে পোশাকের যেকোনো একটি রঙের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিন চোখের ওপর-নিচে। কেউ ব্লাশন দিতে চাইলে হালকা গোলাপি বেছে নিন। কপালে টিপ দিতে ভুলবেন না। অনেকে টিপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁরা ঠোঁট রাঙান লাল রঙে। তবে হালকা রঙের লিপস্টিক এ পোশাকের সঙ্গে বেশি মানাবে। এবার আসা যাক চুলের সাজে। গরম থাকে, তাই চুল টেনে পনিটেইল করা যেতে পারে। খাটো চুল হলে খুলে রাখতে পারেন। স্লিভলেস কুর্তা পরলে বাজু পরতে পারেন। সঙ্গে গলায় লম্বা মালা, পায়ে খাড়ু। লেগিংস, ক্যাপ্রির সঙ্গে এটি আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

তৌহিদা শিরোপা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ০৫, ২০১২