টানা দেওয়া দুল, মোটা বালা—সারা বছর হয়তো পরা হয় না, তবে বৈশাখের সাজে মানিয়ে যাবে দারুণ। মডেল: নন্দি বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। তাই বাংলা নতুন বছরের শুরুর দিনটি নিয়ে সবার মধ্যেই থাকে বাড়তি উচ্ছ্বাস। এই উচ্ছ্বাসের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে বৈশাখের সাজসজ্জা। পোশাকের সঙ্গে তাই মানানসই অনুষঙ্গও চাই।

বৈশাখের প্রথম দিনে বর্ণিল পোশাকের মতো গয়না বা অলংকারটাও চাই রঙিন। আর হাতে থাকুক সুন্দর ও মানানসই একটা ব্যাগ। এমনটাই বললেন ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার। তিনি জানান, এবার বিবিয়ানার থিম লাইন হলো—‘রিকশার টুংটাং’। ‘রিকশায় রঙের যে বর্ণিল উপস্থাপন, সেটিই নিয়ে আসতে চেয়েছি পোশাকে আর গয়নায়। এ ছাড়া পুরোনো ডিজাইনের ব্যাগের পাশাপাশি পয়লা বৈশাখের আয়োজনে রেখেছি বটুয়া ধাঁচের নতুন ব্যাগ। ব্যাগগুলো সিল্ক আর ধুপিয়ান কাপড়ের তৈরি। এসব ব্যাগের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে ৫ আর ১০ পয়সার মুদ্রা।’ বলেন তিনি।

ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ের আয়োজনটাও জমকালো। পোশাকের মতো গয়নার ডিজাইনেও লক্ষ করা গেছে উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য। লাল, কমলা, সবুজ রঙের ভারী পাথর, পুঁতি, কাঠ, সুতা দিয়ে ডিজাইন করা গয়নাগুলো সব বয়সের মেয়েরাই পরতে পারবেন—এমনটা বললেন আড়ংয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান ফারজানা হালিম হাই। তিনি আরও বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ এমন একটা দিন, যেদিন সবাই বর্ণিল পরিচ্ছদ পরতে পারেন। এবারের বৈশাখে সব ধরনের গয়নাই নতুন করে ডিজাইন করেছি। সোনার দাম যেহেতু আকাশচুম্বী, তাই রেখেছি সোনার ছোট গয়না। নতুনত্ব এসেছে রুপা আর ফ্যাশন জুয়েলারিতে (তামা, পিতল, কাঠ)। এ ছাড়া রয়েছে গলার বড় মালা, হাঁসুলি, হাতের বালা, কানের মাকড়ি, খোঁপার কাঁটাসহ নানা ধরনের গয়না।’ আড়ংয়ের আয়োজনে এবার রয়েছে বেশ কয়েক ধরনের ব্যাগ। এখানে শীতলপাটির বুননের ব্যাগ যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি পাওয়া যাবে সিল্ক, অ্যান্ডি, ধুপিয়ান কাপড়ের ওপরে সুতা ও পুঁতি দিয়ে নকশা করা ব্যাগ। আবার অনেক বেশি অলংকারসমৃদ্ধ পিতল আর পাথরের নকশা করা বটুয়া, ক্লাচ আর কাঁধে ঝোলানো ব্যাগও পাওয়া যাবে। অনেকে পয়লা বৈশাখের সারাটা দিন বাইরে কাটাবেন। তাঁরা চামড়া বা পাটের বড় ব্যাগ নিয়ে বের হতে পারেন।

গয়নার দোকান মাদুলীর পরিচালক তমিজউদ্দিন বলেন, জাংক জুয়েলারি তো এখনকার ফ্যাশন। আর এই জুয়েলারি তরুণীরা যেমন ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি পরতে পারেন বয়স্ক নারীরাও। তবে এ ক্ষেত্রে রংটা হলো বিবেচনার বিষয়। অর্থাৎ, যাঁদের বয়স একটু বেশি, তাঁরা তামাটে বা কালচে রঙের গয়না পরলেই ভালো। মাদুলীর আয়োজনে রয়েছে কাঠের মোটা বালা, তামা ও পিতলের মোটা চুড়ি, লম্বা মালা, নেকলেস, কানের দুল ও বাজু। যাঁরা স্লিভলেস (হাতা ছাড়া) পোশাক পরতে পছন্দ করেন, তাঁরা এই বিশেষ দিনে গয়না হিসেবে বেছে নিতে পারেন বাজু।

ফ্যাশনেবল আবার দেশীয় ঘরানার—এমন ব্যাগ কিনতে চাইলে চলে যেতে পারেন ঢাকার গুলশান-২-এর পিংক সিটি শপিং মলের এনা লা মোডে। সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ হলো এখানকার ব্যাগের বিশেষত্ব। এনা লা মোডের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার আনিকা ওসমান বলেন, ‘চামড়া, জামদানি, কাতান, বেনারসি আর বাটিক তো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। আর এসব উপাদানে তৈরি ব্যাগগুলো বেশ বর্ণিল। তাই খুব সহজেই বৈশাখের প্রথম দিনের পোশাকের সঙ্গে এই ব্যাগগুলো মানিয়ে যায়।’

দাম আর প্রাপ্তিস্থান
ফ্যাশন হাউস আড়ং থেকে বিভিন্ন আকারের রুপার গয়না কিনতে খরচ হবে ২৫০০-৫০০০ টাকা। ফ্যাশন জুয়েলারির যেকোনো একটা পিস কিনতে পারবেন ২০০-৫০০ টাকায়, আর পুরো সেট কেনা যাবে ১৫০০-৩০০০ টাকায়। ক্লাচ, বটুয়া কিংবা চামড়ার বড় ব্যাগ পাওয়া যাবে ৫০০-৩০০০ টাকায়। বিবিয়ানার বিভিন্ন ডিজাইনের গয়নার দাম ভিন্ন হবে আকারের কারণে। দাম পড়বে ২০০-৮০০ টাকা। এ ছাড়া এখান থেকে ব্যাগ কেনা যাবে ৪০০-৬০০ টাকায়। মাদুলী থেকে গয়না কেনা যাবে প্রতিটা ৫০-৭০০ টাকায়। সেট কেনা যাবে ৫০০-১৫০০ টাকায়। ফ্যাশন হাউস দেশালে পাওয়া যাবে তামা, পিতল, রঙিন সুতা, পুঁতি আর কাপড়ের তৈরি গয়না, যা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৮০০ টাকার মধ্যে। এনা লা মোড থেকে ব্যাগ কিনতে পারবেন ৫০০-২৫০০ টাকায়। অঞ্জন’স থেকে চামড়া, রঙিন চট আর কাপড়ের ওপর সুতার কাজ করা ব্যাগ কেনা যাবে ১৫০-৬০০ টাকায়।

টানা দেওয়া দুল, মোটা বালা—সারা বছর হয়তো পরা হয় না, তবে বৈশাখের সাজে মানিয়ে যাবে দারুণ।

মডেল: নন্দিনী গয়না ও ব্যাগ: আড়ং পোশাক: ওটু সাজ: বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ

শারমিন নাহার
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ১২, ২০১১